Random

রাজহাঁস পুরুষ মহিলা চেনার উপায় জেনে নিন

আমরা যারা গৃহপালিত পশু পাখি লালন পালন করতে ভালোবাসি। তাদের জন্য আজকের এই আর্টিকেল টি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। মূলত আপনি অন্যান্য সব গৃহপালিত পশু পাখি পালন করার পাশাপাশি রাজহাঁস পালন করতে পারবেন। আজকের আর্টিকেলের আলোচ্য বিষয় রাজহাঁস পুরুষ মহিলা চেনার উপায় জেনে নিন। বর্তমান সময়ে আপনি যদি সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে রাজহাঁস পালন করতে পারেন। তাহলে আপনি অধিক পরিমাণে লাভবান হতে পারবেন। আর আমি আপনাকে এমন অনেক মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারব। যারা মূলত রাজহাঁস পালন করে বর্তমান সময়ে অধিক পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পেরেছে। মূলত সে কারণেই আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাকে রাজহাঁস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।

রাজহাঁস পুরুষ মহিলা চেনার উপায়

তো যখন একজন নতুন ব্যক্তি হিসেবে আপনি রাজহাঁস কিনতে যাবেন। তখন আপনাকে একটি বিষয়ে বেশ দ্বিধায় পড়ে যেতে হবে। কেননা তখন আপনার মনে একটি প্রশ্ন জেগে থাকবে যে। রাজহাঁস পুরুষ মহিলা চেনার উপায় কি। কারণ নতুন ব্যক্তি হিসেবে আপনি কোন ভাবেই বুঝে উঠতে পারবেন না যে। একটি রাজহাঁস পুরুষ নাকি সেই রাজহাঁ টি মহিলা। তবে এটি বোঝার জন্য আপনাকে বিশেষ একটি উপায় অনুসরণ করতে হবে। আর যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন যে। কোন একটি রাজহাঁস পুরুষ নাকি মহিলা। চলুন এবার তাহলে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক। যাতে করে আপনার রাজহাঁস সম্পর্কিত কোন কিছু অজানা না থাকে।

প্রথমত আপনাকে লক্ষ্য করতে হবে, আপনি যে রাজহাঁস টি কিনতে চাচ্ছেন সেটি আসলে কত বড় লম্বা। কেননা মহিলা রাজহাঁসের চেয়ে পুরুষ রাজহাঁস গুলো একটু বেশি লম্বা হয়ে থাকে। আর যখন আপনি এই ধরনের লম্বা রাজহাঁস দেখতে পারবেন। তখন আপনাকে বুঝে নিতে হবে যে, সেই লম্বা রাজহাঁস টি হল পুরুষ। অপরদিকে আপনি যদি পুরুষ এবং মহিলা রাজহাঁস কিনতে চান। তাহলে আপনাকে আরো একটা বিষয়ের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আর সেই বিষয় টি হল যে, মহিলা হাঁসের চাইতে যে পুরুষ হাঁস গুলো থাকবে। তারা অধিক পরিমাণে রঙিন হবে। এর পাশাপাশি প্রায় অধিকাংশ প্রজাতির পুরুষ রাজহাঁসের লেজের কাছে এটি কুঁচকানো পালক থাকে। যে পালক টি আপনি কখনোই মহিলা রাজহাঁস এর পেছনে দেখতে পারবেন না।

See also  লোডশেডিং নিয়ে কবিতা

দেখুন রাজহাঁস দেখতে একটু বড় আকৃতির হয়। এবং এই বিশেষ ধরনের রাজহাঁসের মাথায় ছোট্ট করে একটি বা একাধিক মুকুট থাকে। মূলত এই ধরনের রাজহাঁস গুলো যেমন আকারের দিক থেকে অনেকটা বড় হয়। সে কারণে এই রাজহাঁসের গলা বেশ বড় এবং লম্বা হয়ে থাকে। সচরাচর আমরা যেসব দেশি হাঁস দেখি, সেই হাঁস গুলোর মত রাজহাঁস শব্দ করে না। তবে রাজহাঁসের শব্দ গুলো একটু উচ্চস্বরে হয়। এবং এরা অধিকাংশ সময় দলবেঁধে চলাফেরা করতে ভালোবাসে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, যখন রাজহাঁস দল বেঁধে চলাফেরা করে। তখন তারা অনেক সময় আশেপাশের মানুষ গুলো কে তাড়া করে থাকে।

তো কোনো কারণে যদি আপনি রাজহাঁস লালন পালন করতে চান। তাহলে কিন্তু আপনাকে বেশ কিছু বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে হবে। যেমন, রাজহাঁসের খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া দরকার। রাজহাঁস মহিলা না পুরুষ জনার সেটা উপায় কি। এবং রাজহাঁসের রোগ ও প্রতিকার কি। তো যখন আপনি এই বিষয় গুলো সম্পর্কে একেবারে বিস্তারিত ভাবে জেনে নিতে পারবেন। তখন আপনিও অন্যান্য মানুষদের মতো রাজহাঁস পালন করতে পারবেন। এবং এই রাজহাঁস পালনের ফলে অধিক পরিমাণ অর্থ উপার্জন করে নিতে পারবেন। আর আপনি যদি এই বিষয় গুলো সম্পর্কে একেবারে বিশদ ভাবে জেনে নিতে চান। তাহলে আজকের পুরো আর্টিকেল টি আপনাকে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।

রাজহাঁসের খাদ্য তালিকা

আপনি অনেক সময় লক্ষ্য করতে পারবেন যে। রাজহাঁস কে যদি পতিত জমির উপর ছেড়ে দেওয়া হয়। তাহলে তারা নিজের খাদ্য নিজেরাই সংগ্রহ করতে পারে। আর আপনি যদি এইভাবে রাজহাঁস পালন করতে পারেন। তাহলে আপনার খরচ এর পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে। তবে যদি কোন কারণে আপনি তাদের কে পতিত জমির মাধ্যমে খাদ্য সরবরাহ করতে না পারেন। সে ক্ষেত্রে আপনাকে কিন্তু রাজহাঁসের খাদ্য তালিকা অনুযায়ী তাদের ক্ষুদা নিবারণ করতে হবে। তো সে কারণে রাজহাঁস লালন পালন করার জন্য অবশ্যই আপনাকে রাজহাঁসের খাদ্য তালিকা সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। যেমন:

  1. গমের ভাঙ্গা খাওয়াতে হবে। 
  2. ছোলা দিতে হবে। 
  3. গুঁড়ো দুধ খাওয়াতে হবে। 
  4. সরগাম ভাঙ্গা দিতে হবে। 
  5. কোকোনাট মিল পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়াতে হবে। 
  6. মিট মিল প্রয়োজন অনুসারে দিতে হবে। এবং 
  7. নিয়মিত লবণ খাওয়াতে হবে।
See also  বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা বাগধারা (কমন উপযোগী)

এর পাশাপাশি আপনার বাড়িতে যেসব খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকবে। সে গুলো কখনো আপনি নষ্ট করে ফেলবেন না। বরং যদি আপনি আপনার বাড়িতে রাজহাঁস পালন করেন। তাহলে এই ধরনের উচ্ছিষ্ট খাবার গুলো রাজহাঁস কে খেতে দিবেন। কেননা রাজহাঁস এই ধরনের খাবার খেতে অনেক পছন্দ করে।

রাজহাঁসের রোগ ও প্রতিকার

এতক্ষণ থেকে আপনি রাজহাঁস সম্পর্কিত অনেক কিছুই জানতে পেরেছেন। তো এই বিষয় গুলো জানার পাশাপাশি, রাজহাঁসের রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ভাবে ধারণ নিতে হবে। কারণ যখন আপনি কোন গৃহপালিত পশু পাখি লালন পালন করবেন। তখন অবশ্যই সেই গৃহপালিত পশু পাখির রোগ এবং প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নিবেন। যাতে করে পরবর্তী সময়ে আপনার পালন করা সেই পশু পাখির মধ্যে যদি কোন প্রকার রোগ দেখা যায়। তাহলে আপনি যেন তাৎক্ষণিক ভাবে তা সনাক্ত করতে পারেন। এবং দ্রুততার সাথে সেই রোগের প্রতিকার নিতে পারেন। চলুন এবার তাহলে রাজহাঁস এর রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

রাজহাঁসের রোগ জীবনু মূলত সংক্রমনের ফলে হয়ে থাকে। অর্থাৎ যখন কোন একটি হাঁস নির্দিষ্ট কোন রোগের মধ্যে আক্রান্ত হয়। তখন তার সাথে বসবাস করা অন্যান্য হাঁস গুলো তে এই ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভালো লাগার মত বিষয় হলো যে, আপনি রাজহাঁসের মধ্যে রোগের পরিমাণ খুব একটা লক্ষ্য করতে পারবেন না। কিন্তু এটা একবারই ভেবে নেওয়া উচিত নয় যে, রাজহাঁস কোন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয় না। বরং যদি কোন কারনে রাজহাঁসের মধ্যে রোগ দেখা দেয়। তাহলে সেই রাজহাঁস কে বাঁচিয়ে রাখা অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। আর রাজহাঁস এর মধ্যে সচরাচর হেপাটাইটিস ভাইরাস এবং প্লেগ রোগের আক্রমণ দেখা যায়।

See also  বাংলাদেশ কিসের জন্য বিখ্যাত

তো যখন আপনি কোন রাজহাঁসের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখতে পারবেন। তখন আপনাকে সব গুলো কাজ সঠিক ভাবে করতে হবে। যেমন, কোন অবাঞ্ছিত কিংবা অতিথি পশু পাখির আনাগোনা বন্ধ করে দিতে হবে। আপনার রাজহাঁসের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যেখানে আপনি হাঁস রাখবেন, সেই জায়গা টা সব সময় এবং পরিচ্ছন্ন রাখবেন। এর পাশাপাশি রাজহাঁসকে নিয়মিত টিকা দেয়ার চেষ্টা করবেন। সবশেষে যখন আপনি রাজহাঁস কে খাদ্য প্রদান করবেন। তখন অবশ্যই পানির পরিমাণ অধিক রাখার চেষ্টা করবেন।

Q:রাজহাঁস কত দিনে ডিম দেয়?

>> পুরুষ রাজহাঁস যখন 15 কেজি হয় এবং স্ত্রী রাজহাঁস যখন 9 কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। তখন তারা প্রতি বছরে ৩০ থেকে ৪০টি করে ডিম দিয়ে থাকে।

Q:রাজহাঁস পালন লাভজনক কেন?   

>> তো যদি আপনার মনে এই প্রশ্নটি জেগে থাকে যে রাজহাঁস পালন লাভজনক কেন। তাহলে এই প্রশ্নের উত্তরে আমি আপনাকে বলব যে, রাজহাঁসের ক্ষেত্রে আপনি প্রধানত দুইভাবে লাভবান হতে পারবেন। প্রথমত যখন একটি রাজহাঁস এর পর্যাপ্ত পরিমাণ বয়স হয়। তখন সেই রাজহাঁসের মাংস অনেক বেশি হয়। এর পাশাপাশি আপনি রাজহাঁস থেকে প্রতি বছরের ৩০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত ডিম পাবেন। অপরদিকে রাজহাঁসের রোগ এর পরিমাণ অনেক কম হয়ে থাকে।    

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button