Health

আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি

আমাদের মানব দেহের মধ্যে বিভিন্ন রকমের রোগ হয়ে থাকে। তবে একটি মানুষের পেটের মধ্যে যত গুলো রোগ হয়। তার মধ্যে আমাশয় হল সবচেয়ে পরিচিত একটি রোগ। যদিও বা আমাশয় হলে আমরা এই বিষয়টি কে খুব একটা গুরুত্ব দেই না। তবে এমনটা করা কখনোই উচিত নয়। আজকের আলোচ্য বিষয় আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে।  যখন কোন একজন ব্যক্তির পেটের মধ্যে আমাশয় এর সমস্যা দেখা দিবে। তখন অবশ্যই সেই ব্যক্তি কে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। কেননা অন্যান্য রোগ যেমন একটি মানুষের শরীরে অনেক ক্ষতি করতে পারে। ঠিক তেমনি ভাবে আমাশয় নামক এই পেটের রোগ টি একজন ব্যক্তির অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আর আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আমাশয় রোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব। মূলত এই আমাশয় রোগ কি এবং কেন একজন মানুষের পেটের মধ্যে আমাশয় এর সমস্যা দেখা দেয়। আর যদি কোন কারণে আপনার মধ্যে এই আমাশয় রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। তাহলে কিভাবে আপনি আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা নিবেন। তার প্রতিটা বিষয় নিয়ে আজকে ধাপে ধাপে আলোচনা করার চেষ্টা করব। তাই অবশ্যই আপনি আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল টি মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করবেন।

আমাশয় কি?

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল এর মাধ্যমে আমি আপনাকে আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। তবে তার আগে আপনাকে জানতে হবে যে, এই আমাশয় আসলে কি। সাধারণত একজন ব্যক্তি যখন স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ঘন ঘন মলত্যাগ করবে। এর পাশাপাশি যখন মলত্যাগ করার সময় অতিরিক্ত পরিমাণে কষ্টবোধ অনুভব হবে। এছাড়াও মন ত্যাগ করার সাথে সাথে হালকা পিচ্ছিল পরিমাণের তরল পদার্থ বের হবে। মূলত সেই সমস্যা কে বলা হয়ে থাকে আমাশয়।

See also  ডেঙ্গু রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

আমাশয় হওয়ার কারণ কি?

এই আমাশয় নামক রোগ টি হল পেটের এক ধরনের জীবনু ঘটিত রোগ। মূলত এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা একটি বিশেষ পরজীবী রয়েছে। যার কারণে এই পরজীবীর যখন সংক্রমণ শুরু হয়। তখন একজন ব্যক্তির পেটের মধ্যে এই আমাশয় রোগের প্রদুর্ভাব দেখা যায়। তবে শুধুমাত্র এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা পরজীবীর কারণেই একটি মানুষের পেটের মধ্যে আমাশয় হয় না। বরং শিগেলা নামক ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ এর ফলেও একজন মানুষের পেটের মধ্যে আমাশয় নামক রোগ হয়ে থাকে।

তবে এখানে একটা কথা বলে রাখা উচিত যে, একজন মানুষের শরীরে মূলত দুই ধরনের আমাশয় লক্ষ্য করা যায়। মূলত যখন এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা  পরজীবী এর কারণে যে আমাশয় রোগ হয়ে থাকে। সেটি কে বলা হয় অ্যামিবা ঘটিত আমাশয়। অপরদিকে এন্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামক ব্যাকটেরিয়ার ফলে একজন মানুষের পেটের মধ্যে যে আমাশয় রোগ হয়। তাকে বলা হয়ে থাকে, শিগেলাসিস আমাশয়।

আমাশয় রোগের লক্ষণ গুলো কি কি?

উপরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা থেকে আপনি জানতে পেরেছেন যে, আমাশয় কি। এবং কখন একজন ব্যক্তির পেটের মধ্যে আমাশয় রোগের এর সূচনা হবে। তো আপনি যদি উপরের এই আলোচিত আলোচনা গুলো পড়ে থাকেন। তাহলে এই বিষয় গুলো সম্পর্কে একবারে পরিষ্কার ধারণা পেয়ে যাবেন। এখন আপনাকে আমাশয় রোগের লক্ষণ গুলো জেনে নিতে হবে। মূলত কখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, একজন ব্যক্তির মধ্যে আমাশয় রোগ হয়েছে। চলুন এবার তাহলে সেই আমাশয় রোগের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

  1. অনেক সময় রোগীর পেট ফাঁপা এবং ডায়রিয়া এর সমস্যা হবে।
  2. অধিকাংশ সময় ঘন ঘন পায়খানা করার চাপ সৃষ্টি হবে।
  3. বমি বমি ভাব থাকবে এর পাশাপাশি অধিকাংশ সময় রোগীরা বমি পর্যন্ত করে ফেলবে।
  4. যখন আমাশয় রোগে আক্রান্ত রোগী মলত্যাগ করবে। তখন তাদের মল ত্যাগ করার সময় রক্ত বের হবে।
  5. পেটের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ব্যথা অনুভূত হবে।
  6. রোগীর শরীর ক্রমগত ভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।
  7. শরীরের মধ্যে হালকা জ্বর অনুভব হবে।
  8. যখন সেই রোগী মলত্যাগ করবে, তার মলত্যাগ করার পূর্বে পেটের মধ্যে ব্যথা শুরু হবে।
See also  কুষ্ঠ রোগের লক্ষণ ও উপসর্গ এবং প্রতিকার জেনে নিন

উপরে আপনি বেশ কিছু আমাশয় রোগের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছেন। মূলত যখন কোন একজন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে এই লক্ষণ গুলো দেখা যাবে। তখন আপনি ধরে নিবেন যে, সেই ব্যক্তি মূলত আমাশয় নামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এবং সেই ব্যক্তির তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিতে হবে।

আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

এতক্ষণ থেকে আপনি জানতে পারলেন যে, আমার আমাশয় কি। এবং আমাশয় রোগের লক্ষণ গুলো কি কি। তো যখন আপনি দেখতে পারবেন যে, কোন একজন ব্যক্তি আমাশয় রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তখন আপনি সেই ব্যক্তির ঘরোয়া চিকিৎসা নিতে পারবেন। তবে সে জন্য আপনাকে আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। আর এবার আমি আপনাকে সেই ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। যাতে করে আপনি আপনার রোগের সঠিক চিকিৎসা নিতে পারেন। চলুন এবার তাহলে সেই আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

পানি এবং খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে

যখন কোন একজন ব্যক্তি ডায়রিয়া কিংবা আমাশয় এর মত রোগে আক্রান্ত হবে। তখন সেই ব্যক্তি মলত্যাগ করার সময় অতিরিক্ত পরিমাণে পানি বের হয়ে যাবে। যার ফলে সেই রোগী প্রচুর পরিমাণে পানি শূন্যতায় ভুগে থাকে। তো এ ক্ষেত্রে আপনাকে সেই ব্যক্তি কে তরল খাবার খাওয়াতে হবে। 

যেমন আপনি সেই ব্যক্তি কে ভাতের মার খাওয়াতে পারেন। অথবা সেই ব্যক্তি কে ডাবের পানি খাওয়াতে পারেন। তবে আমার যুক্তি মতে আপনি যদি আমাশয় রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কে প্রচুর পরিমাণে পানি। এবং সেই পানির সাথে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি ঐ পানি শূন্যতা থেকে রক্ষা পাবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে আদা খাওয়াতে হবে

আমাশয় রোগে আক্রান্ত রোগীর জন্য আদা খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি আদা কুচি কুচি করে কেটে তার সঙ্গে গোলমরিচ, জিরা ইত্যাদি মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। তাহলে সেই রোগী অনেকটাই সুস্থ বোধ করবে। তবে অবশ্যই এগুলোর সাথে পরিমিত পরিমানে লবণ মিশিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন। যাতে করে সেই রোগী পূর্বের থেকে অনেকটাই সুস্থতা বোধ করে।

See also  জেনেটিক রোগ কাদের বেশি হয় জেনে নিন

লেবুর শরবত খাওয়াবেন

একজন আমাশয় রোগে আক্রান্ত রোগী কে পরিমিত পরিমাণে লেবুর শরবত খাওয়ানো উচিত। কারণ আমরা সবাই জানি যে, লেবুর শরবত আমাদের শরীরকে অনেকটা সতেজ রাখে। আর যখন কোন একজন ব্যক্তি আমাশয় নামক রোগে আক্রান্ত হবে। তখন তার শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে ইলেকট্রোলাইট বের হয়ে যায়। 

আর এই বিশেষ পদার্থ টি বের হয়ে যাওয়ার কারণে। সেই রোগী ক্রমাগত ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আপনি যদি সেই রোগী কে পর্যাপ্ত পরিমাণে লেবুর রস এবং পরিমিত পরিমাণে লবণ মিশিয়ে শরবত তৈরি করে খাওয়ান। তবে সেই রোগী নিজে থেকেই একটা সতেজ অনুভব করবে।

এর পাশাপাশি আপনি যদি সেই লেবু কে সেদ্ধ করে। তারপর সেই পানির মধ্যে লবণ এবং চিনি মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন। তাহলে এটি যথেষ্ট পরিমাণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এতে করে পেটের মধ্যে যত প্রকার দূষিত পদার্থ রয়েছে। তা খুব সহজেই বের হতে সহায়তা করবেন।

পুদিনা ও এলাচ মিশ্রণ খাওয়াতে হবে

আপনি যদি আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা করতে চান। তাহলে এবার আমি আপনাকে একটা কার্যকারী উপায় বলার চেষ্টা করব। মূলত এক্ষেত্রে আপনি 6 থেকে 7 টি পুদিনা পাতা। এবং এক টেবিল চামচ মৌরি রস এর সাথে সাথে ছোট ছোট দারুচিনি। এবং কালো এলাচ সব গুলো মিশিয়ে যখন আপনি পানিতে ফুটিয়ে নিবেন। এবং 10 মিনিট কিংবা ১৫ মিনিট পরে উক্ত মিশ্রণ ভালোভাবে সেকে নিবেন। 

সবশেষে আপনাকে এই মিশ্রনের উপরে পরিমিত পরিমাণে লবণ প্রদান করতে হবে। আর যখন আপনি আমাশয় আক্রান্ত রোগী কে এই মিশ্রণ খাওয়াবেন। তখন সেই রোগী অনেকটাই সুস্থতা বোধ করবে। এবং আমাশয় রোগের জন্য এটি অনেক ভালো ফলাফল প্রদান করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button